বড় ছাহেব কিবলাহর দেওয়া ছাগল পেয়ে এতিম ছেলেদের খুশী।
আহমদ আল মনজুর: আজ সকালে দুটি এতিম বাচ্চাকে দেখলাম এই বকরিটিকে আদর করে খুব হাসিখুশি করে চড়াচ্ছে। তাঁরা দুই ভাই। বললাম, বকরি টি খুবই সুন্দর! তোমরা একে মেহেদী মাখিয়েছ? তারা উত্তর দিল, এটা সহজে যাতে চিনতে পারি আমরা।
তারা ফের বললো- এটা বড় ছাহেব দিয়েছেন! মাশা-আল্লাহ!
এই পৃথিবীতে এমন হাস্তী জীবিত আছেন যিনি এই বৈশ্বিক মহামারী তে গোপনে গোপনে অসহায় এতিম দুস্থদের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। অপরদিকে দেখা যায় মহামারী তে কিছু লোক এরকম অসহায় এতিমদের খাদ্য চুরি করছে, তাদের অধিকার লোটপাট করছে।
কিন্তু বড় ছাহেবের এ সংগ্রাম রীতিমতো চলছে নিষ্ঠার সাথে।
তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, বড় ছাহেব কি আর কাউকে ছাগল দিয়েছেন?
তারা উত্তর দিল আরো অনেককে দিয়েছেন।
আবার জিজ্ঞেস করলাম, আনুমানিক কতটা বকরি দিয়েছেন, সে বললো ৫০/৬০ টি হবে।
আমার জানা নেই গতকাল তিনি কতোটা বকরি কতোটি এতিম অসহায় পরিবারকে দান করেছেন?
বড় ছাহেব ফুলতলী আসমান এবং জমিনের নিচে একজন সত্যিকার নায়েবে নবী (নবীর উত্তরাধিকার)। বর্তমান সময়ে এরকম বুজুর্গ পাওয়া খুবই বিরল।
রাসূল (সাঃ) এর জীবনের আখলাকে হাসানা ( উত্তম চরিত্র) বড় ছাহেবের জীবনে প্রতফলিত হয়েছে।
হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ হলেন দানশীলতার ক্ষেত্রে উপমা স্বরূপ। অসহায় অন্ধ-আতুর, অনাথ-অনাথা, বিধবা, বেকারদেরকে তিনি সহায়তায় সবার আগে।
তেমনি ছিলেন তাঁর ওয়ালীদ মুহতারাম ও মুর্শিদ হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.):
হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রা:) যুগের হাতেম তায়ী ছিলেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল অসহায় লোক তাঁর দানের অংশভাগ পেত। এমনকি হিন্দু ধর্মের পূর্বেকার বামুনরা এখন গরীব হওয়াতে সবার কাছে হাত পাততে পারতো না, তাই তিনি নিজে তাদের খোঁজখবর নিয়ে সহায়তা দান করতেন।
তেমনি ছিলেন তাঁর নানা হযরত শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (র.):
হযরত শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (রা:) এতো গোপনে অসহায় মানুষকে দান করতেন তা তার পাশের জন বুঝতো না। তাঁর মেয়েদেরকে প্রায় সময় খুচরা পয়সা দিতেন এবং বলতে অন্তর খোলে মানুষদেরকে বেসমার বিতরণ করো।
তেমনি ছিলেন এই সিলসিলার উর্ধতন প্রাণপুরুষ হযরত কারামত আলী জৌনপুরী (র.):
হযরত কারামত আলী জৈনপুরী (রা:) মানুষের পাশে যেভাবে ইসলাম নিয়ে পৌঁছেছেন তেমনিভাবে অসহায় মানুষের পাশে ঢাল হিসেবে খেদমত করেছেন।
তেমনি ছিলেন হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভি (র.):
তিনি অসহায় মানুষকে গোপনে গোপনে দান করতেন। পাড়া পড়শির খোঁজখবর নিতেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পানি এবং লাকড়ি সংগ্রহ করে দিতেন।
তেমনি ছিলেন আমাদের মাজহাবের ইমাম আজম আবু হানিফা (র.):
হযরত ইমাম আজম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত বিন যাওত আল কূফী (রা:) কোনো দিন অসহায় মানুষকে ফিরিয়ে দেন নি। তাদের জন্য আলাদা টাকা,আসবাবপত্র রাখতেন।
তেমনি ছিলেন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.):
তাকে ইসলামের পঞ্চম খলীফা বলা হয়। প্রতিদিন রাত নিজের পিটে আটা বহন করে দীনদুঃখী মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতেন। যে কারণে তাঁর মৃত্যুর পর গোসল দিতে গিয়ে অসংখ্য দাগ পিটে পাওয়া গেছে।
তেমনি ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.):
তিনি অসহায় মানুষকে দেখে কাঁদতেন এবং নিজ হাতে খাবার দিতেন। সহযোগীতা করতেন।
তেমনি ইসলামের তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান গনী (রাঃ):
যিনি নিজের সমস্ত সম্পত্তি অসহায় কৃতদাসদেরকে আজাদ করতে এবং অসহায় মজলুমদের সহায়তায় বিলিয়ে দিয়েছেন।
তেমনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (র.):
তিনি গভীর রজনী তে অসহায় মানুষের ঘরে আপন পিঠে বহন করে খাবার বিলিয়ে দিতেন। এজন্য কবি নজরুল 'উমর ফারুক' কবিতায় লিখেছেন
আজকে উমরপন্থি পথিক দিকে দিকে প্রয়োজন
পিঠে বোঝা নিয়ে পাড়ি দেবে যারা প্রান্তর প্রাণপণ।।
তেমনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ)
তিনি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্ধ বৃদ্ধা মহিলার তাবুতে গিয়ে দুধ দহন করে দিতেন। অসহায় মানুষদের দুঃখে দুঃখিত হতেন।
তেমনি ছিলেন ইসলামের নবী, আমাদের নবী; রাহমাতুল্লিল আলামীন, উম্মতের দরদী নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম:
দিনরাত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কাউকে ফিরিয়ে দিতেন না। সারাদিন রাতে গরীব দুখি মানুষদেরকে দান করতেন। তার দানশীলতা দেখে মক্কার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা আশ্চর্য হয়ে যেত। রাসূল (সাঃ) আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে এই পৃথিবীতে তাশরীফ এনেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
রাসূল (সাঃ) এর প্রতিনিধি হিসেবে পরবর্তীরা এই খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব ফুলতলী নিষ্ঠার সাথে পূর্বসূরিদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছেন।
আল্লাহ তায়ালা হযরত বড় ছাহেবকে দীর্ঘায়ু দান করুন। আমিন ছুম্মা আমীন।
- মহামারীতেও ফুল বৈশ্বিকতলীর বড় ছাহেবের সংগ্রাম থেমে নেই 💞
-আহমদ আল মনজুর
[লেখক: সভাপতি, তালামীযে ইসলামিয়া, জকিগঞ্জ উপজেলা।]
তারা ফের বললো- এটা বড় ছাহেব দিয়েছেন! মাশা-আল্লাহ!
এই পৃথিবীতে এমন হাস্তী জীবিত আছেন যিনি এই বৈশ্বিক মহামারী তে গোপনে গোপনে অসহায় এতিম দুস্থদের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। অপরদিকে দেখা যায় মহামারী তে কিছু লোক এরকম অসহায় এতিমদের খাদ্য চুরি করছে, তাদের অধিকার লোটপাট করছে।
কিন্তু বড় ছাহেবের এ সংগ্রাম রীতিমতো চলছে নিষ্ঠার সাথে।
তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, বড় ছাহেব কি আর কাউকে ছাগল দিয়েছেন?
তারা উত্তর দিল আরো অনেককে দিয়েছেন।
আবার জিজ্ঞেস করলাম, আনুমানিক কতটা বকরি দিয়েছেন, সে বললো ৫০/৬০ টি হবে।
আমার জানা নেই গতকাল তিনি কতোটা বকরি কতোটি এতিম অসহায় পরিবারকে দান করেছেন?
বড় ছাহেব ফুলতলী আসমান এবং জমিনের নিচে একজন সত্যিকার নায়েবে নবী (নবীর উত্তরাধিকার)। বর্তমান সময়ে এরকম বুজুর্গ পাওয়া খুবই বিরল।
রাসূল (সাঃ) এর জীবনের আখলাকে হাসানা ( উত্তম চরিত্র) বড় ছাহেবের জীবনে প্রতফলিত হয়েছে।
হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ হলেন দানশীলতার ক্ষেত্রে উপমা স্বরূপ। অসহায় অন্ধ-আতুর, অনাথ-অনাথা, বিধবা, বেকারদেরকে তিনি সহায়তায় সবার আগে।
তেমনি ছিলেন তাঁর ওয়ালীদ মুহতারাম ও মুর্শিদ হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.):
হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রা:) যুগের হাতেম তায়ী ছিলেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল অসহায় লোক তাঁর দানের অংশভাগ পেত। এমনকি হিন্দু ধর্মের পূর্বেকার বামুনরা এখন গরীব হওয়াতে সবার কাছে হাত পাততে পারতো না, তাই তিনি নিজে তাদের খোঁজখবর নিয়ে সহায়তা দান করতেন।
তেমনি ছিলেন তাঁর নানা হযরত শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (র.):
হযরত শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (রা:) এতো গোপনে অসহায় মানুষকে দান করতেন তা তার পাশের জন বুঝতো না। তাঁর মেয়েদেরকে প্রায় সময় খুচরা পয়সা দিতেন এবং বলতে অন্তর খোলে মানুষদেরকে বেসমার বিতরণ করো।
তেমনি ছিলেন এই সিলসিলার উর্ধতন প্রাণপুরুষ হযরত কারামত আলী জৌনপুরী (র.):
হযরত কারামত আলী জৈনপুরী (রা:) মানুষের পাশে যেভাবে ইসলাম নিয়ে পৌঁছেছেন তেমনিভাবে অসহায় মানুষের পাশে ঢাল হিসেবে খেদমত করেছেন।
তেমনি ছিলেন হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভি (র.):
তিনি অসহায় মানুষকে গোপনে গোপনে দান করতেন। পাড়া পড়শির খোঁজখবর নিতেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পানি এবং লাকড়ি সংগ্রহ করে দিতেন।
তেমনি ছিলেন আমাদের মাজহাবের ইমাম আজম আবু হানিফা (র.):
হযরত ইমাম আজম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত বিন যাওত আল কূফী (রা:) কোনো দিন অসহায় মানুষকে ফিরিয়ে দেন নি। তাদের জন্য আলাদা টাকা,আসবাবপত্র রাখতেন।
তেমনি ছিলেন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.):
তাকে ইসলামের পঞ্চম খলীফা বলা হয়। প্রতিদিন রাত নিজের পিটে আটা বহন করে দীনদুঃখী মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতেন। যে কারণে তাঁর মৃত্যুর পর গোসল দিতে গিয়ে অসংখ্য দাগ পিটে পাওয়া গেছে।
তেমনি ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.):
তিনি অসহায় মানুষকে দেখে কাঁদতেন এবং নিজ হাতে খাবার দিতেন। সহযোগীতা করতেন।
তেমনি ইসলামের তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান গনী (রাঃ):
যিনি নিজের সমস্ত সম্পত্তি অসহায় কৃতদাসদেরকে আজাদ করতে এবং অসহায় মজলুমদের সহায়তায় বিলিয়ে দিয়েছেন।
তেমনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (র.):
তিনি গভীর রজনী তে অসহায় মানুষের ঘরে আপন পিঠে বহন করে খাবার বিলিয়ে দিতেন। এজন্য কবি নজরুল 'উমর ফারুক' কবিতায় লিখেছেন
আজকে উমরপন্থি পথিক দিকে দিকে প্রয়োজন
পিঠে বোঝা নিয়ে পাড়ি দেবে যারা প্রান্তর প্রাণপণ।।
তেমনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ)
তিনি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্ধ বৃদ্ধা মহিলার তাবুতে গিয়ে দুধ দহন করে দিতেন। অসহায় মানুষদের দুঃখে দুঃখিত হতেন।
তেমনি ছিলেন ইসলামের নবী, আমাদের নবী; রাহমাতুল্লিল আলামীন, উম্মতের দরদী নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম:
দিনরাত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কাউকে ফিরিয়ে দিতেন না। সারাদিন রাতে গরীব দুখি মানুষদেরকে দান করতেন। তার দানশীলতা দেখে মক্কার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা আশ্চর্য হয়ে যেত। রাসূল (সাঃ) আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে এই পৃথিবীতে তাশরীফ এনেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
রাসূল (সাঃ) এর প্রতিনিধি হিসেবে পরবর্তীরা এই খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব ফুলতলী নিষ্ঠার সাথে পূর্বসূরিদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছেন।
আল্লাহ তায়ালা হযরত বড় ছাহেবকে দীর্ঘায়ু দান করুন। আমিন ছুম্মা আমীন।
- মহামারীতেও ফুল বৈশ্বিকতলীর বড় ছাহেবের সংগ্রাম থেমে নেই 💞
-আহমদ আল মনজুর
[লেখক: সভাপতি, তালামীযে ইসলামিয়া, জকিগঞ্জ উপজেলা।]

No comments