দ্বীনী খিদমতে শতাব্দীর সেরা ব্যক্তিত্ব হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) --মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান হিফজুর
দ্বীনী খিদমতে শতাব্দীর সেরা ব্যক্তিত্ব হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)
--মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান হিফজুর
রঈসুল কুররা ওয়াল মুফাচ্ছিরীন, সুলতানুল আরিফীন, জামানার শ্রেষ্ট মুজাদ্দিদ, শামসুল উলামা হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) তাঁর সুদীর্ঘ জীবন দ্বীনী খিদমতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন, মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত দ্বীন ইসলামের খিদমত আনজাম দিয়ে গেছেন, তাঁর দ্বীনী খিদমত এই পৃথিবীতে বিরল, তিনি তাঁর গোটা জীবন কুরআনের তরে উৎসর্গ করেছেন। দেশ-বিদেশে বহু দ্বিনী প্রতিষ্টান প্রতিষ্টা করে গেছেন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সূদুর বৃটেনেও ইসলামি ইসলামি শিক্ষার প্রচার ও রক্ষায় মুসলিম কমিউনিটিকে উৎসাহিত দানসহ বহু দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রতিষ্টা করেন এবং বৃটিশ সরকারের কাছেও এ বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেন।
১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২৯ বছর তিনি অনেকবার ব্রিটেন সফর করেছেন। ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে বৃটেনের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক "নতুন দিন"-এ এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ সরকারের কাছে তিনি দাবি উত্থাপন করেছিলেন যে, 'ব্রিটিশ সংবিধানে ইসলামী আইনকে অন্তর্ভুক্ত করতে। যার ফলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠার সুযোগ পাবে।' তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, 'আমি আমার মুসলমান জাতির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বলেছি মুসলমানরা ধর্মীয় শিক্ষা দিক দিয়ে এগিয়ে গেলে এ দেশের সরকারের লাভ হবে।' ব্রিটেন, আমেরিকায় তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে বহু দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে। ভারতেও তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্টিত হয়েছে বহু প্রতিষ্টান। দ্বীনী খিদমতে তিনি এ দুনিয়াতে বিরল।
বাংলাদেশেও ইসলামী শিক্ষা বিস্তার, এর স্বার্থ সংরক্ষণ, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া আদায়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদার্রেছীনের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি আজীবন দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্টা করেছেন অনেক মসজিদ মাদ্রাসা ও মক্তব। পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন অনেক মাদরাসা ও দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্টান।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু দ্বীনী খিদমত--
🔹দারুল কিরাআত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট:
আল্লামা ফুলতলী (রহ.) বহুমুখী দ্বীনী খিদমতের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক খিদমত হলো "দারুল কিরাআত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের খিদমত।" ১৯৫০ সালে ইংরেজি সনে নিজ বাড়িতে ইলমে কিরাআতের দারস প্রদান শুরু করেন। আল-কুরআনুল কারীম বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের শিক্ষা বিস্তারের জন্য তিনি 'দারুল কিরাআত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট' গঠন করেন। তাঁর সম্পত্তির এক বিশাল অংশ (প্রায় ৩৩ একর জমি) এ ট্রাস্টের জন্য ওয়াকফ্ করেছেন। এ অধীনে বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে বর্তমানে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি শাখা-কেন্দ্র রয়েছে।
দারুল কিরাআত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট সম্পর্কে বিশ্বকারী আব্দুল বাছিতের সন্তান শায়খ ইয়াছির আব্দুল বাছিতের মূল্যায়ন। তিনি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার নিকট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন-- 'আমি পৃথিবীতে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। কুরআন শিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্টান দেখেছি কিন্তু আল্লামা ফুলতলী (রহ.)-এর প্রতিষ্টিত এ প্রতিষ্টানের মতো এতো সুশৃঙ্খল ও সুব্যবস্থাপনা কোথাও দেখিনি। অনেক জায়গায় দেখেছি কুরআন কিভাবে পড়তে হয় সে শিক্ষাই দেওয়া হয়; কিন্তু বাংলাদেশে এসে দারুল কিরাআতের ক্লাসভিত্তিক তাজবীদ সহাকারে সহীহ কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
🔹লতিফিয়া এতিমখানা:
১৯৭২ সালে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) নিজ ভূমিতে একটি এতিমখানা প্রতিষ্টা করেন। বর্তমানে উনার নামে নামকরণ করা হয়েছে 'লতিফিয়া এতিমখানা'। লতিফিয়া এতিমখানায় বিভিন্ন শাখা রয়েছে, এতিমখানায় ফ্রি থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি বালিকা শাখা, নানাবিধ সহপাঠ্যক্রম,প্রকাশনা, তারবিয়াত-এর ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব,সেলাই প্রশিক্ষণ, মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পরিবহন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা ও খেলাধূলার সুযোগ। বর্তমানে প্রায় ১৭০০ এতীম অবস্থান করে এখন সুশিক্ষা গ্রহণ করছে। লতিফিয়া এতিমখানার বিভিন্ন শাখা সমূহের বিবরণ নিম্নে দেয়া হলে--
১. লতিফিয়া এতিমখানা হিফযুল কুরআন মাদরাসা।
২. লতিফিয়া এতিমখানা আলিয়া শাখা (ষষ্ঠ-আলিম)
৩.লতিফিয়া এতিমখানা কিন্ডারগার্টেন (নার্সারি-পঞ্চম)
৪. লতিফিয়া এতিমখানা বালিকা শাখা (হিফজ, কেজি ও ষষ্ঠ শ্রেণী)
৫. লতিফিয়া এতিমখানা সাপ্তাহিক দারুল কিরাআত শাখা।
৬. কারিগরি প্রশিক্ষণঃ মটর ড্রাইভিং, কম্পিউটার, সেলাই ও ইলেকট্রনিক প্রশিক্ষণ।
এছাড়াও খেলাধুলা করার জন্য শিশু পার্ক, লাইব্রেরি ইত্যাদি।
🔹হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসা:
১৯৮৩ সালে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র সোবহানীঘাটে এ মাদরাসা প্রতিষ্টা করেন। বর্তমানে এ মাদরাসায় দাখিল ও আলিম জামাতে বিজ্ঞান বিভাগ ও ফাযিল (বি.এ) অনার্স সহ কামিল জামাতে ফিকহ ও হাদিস বিভাগ চালু আছে। মাদরাসাটির অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর পঞ্চম ছেলে মাওলানা মুহাম্মদ কমর উদ্দিন।
🔹লতিফিয়া কমপ্লেক্স:
আল্লামা ফুলতলী (রহ.)-এর সহযোগিতায় ফুলতলীতে ২০০২ সালে এটি প্রতিষ্টিত হয়। এ কমপ্লেক্সে তিনটি প্রতিষ্টান রয়েছে--
▪আল-কুরআন মেমোরাইজিং সেন্টার
▪ফুলতলী ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন
▪ফুলতলী ইসলামিক প্রি-ক্যাডেট একাডেমি।
এটি তাঁর চতুর্থ ছেলে মুফতি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
🔹বাংলাদেশ আনজুমানে মাদারিছে আরাবিয়া:
মাদরাসা শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া আদায়ে সংঘবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) এ সংগঠন প্রতিষ্টা করেন। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ পরিক্ষা ব্যবস্থাপনা, বৃত্তিপ্রদান ইত্যাদি শিক্ষা উন্নয়নমূলক কাজের লক্ষ্যে এটি গঠিত হয়।
🔹বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলাহ:
ব্যক্তি জীবনে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্টার নিমিত্তে ১৯৭৯ সালে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলাহ প্রতিষ্টা করেন।
🔹বাংলাদেশ আনজুমানে তালামিযে ইসলামিয়া:
ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে ছাত্রদের জীবন গঠনের লক্ষ্যে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) ১৯৮০ সালে 'বাংলাদেশ আনজুমানে তালামিযে ইসলামিয়া প্রতিষ্টা করেন।
🔹লতিফিয়া কারী সোসাইটি:
হযরত আল্লামা ফুলতলী (রহ.)-এর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী লাভ করেছে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতের সর্বোচ্চ সনদ। এ সকল কারী ছাহেবদেরকে সহীহ আকিদা-বিশ্বাসে একতাবদ্ধ করে রাখা এবং ইলমে কিরাআতের এ খিদমত চালু রাখার জন্য তিনি গঠন করেন 'লতিফিয়া কারী সোসাইটি বাংলাদেশ'
🔹ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ড:
হাফিজিয়া মাদরাসাগুলো সুন্দর ও সুচারুরূপে পরিচালনা করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে হযরত আল্লামা ফুলতলী (রহ.)-এর নির্দেশে 'ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ড' নামে একটি বোর্ড গঠন করা হয়। এ বোর্ডের কার্যক্রম লতিফিয়া কারী সোসাইটির মাধ্যমে সমগ্র দেশে বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২২টি উপজেলার ৩০৪টি মাদরাসা এ বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
🔵হযরত আল্লামা ফুলতলী (রহ.)-এর দ্বীনী খিদমতের পরিধি বাংলাদেশ, ভারত তথা সমগ্র উপমহাদেশ ছড়িয়ে সুদূর ইউরোপ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইলমে কিরাআত, ইলমে হাদিস, ইলমে তাসাউফসহ সব ধরনের খিদমত পরিচালনার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে বহু সংখ্যক দ্বীনী প্রতিষ্টান ও সংগঠন প্রতিষ্টা করে গেছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) প্রতিষ্টিত এসকল প্রতিষ্টান ও সংগঠন সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো--
🔹দারুল হাদিস লতিফিয়া:
হযরত আল্লামা ফুলতলী (রহ.) ১৯৭৮ সালে সর্বপ্রথম ব্রিটেন সফরকালে সে দেশে অভিবাসী মুসলিম সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে উদ্যোগী হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্টা করেন (কামিল স্তর পর্যন্ত উন্নিত) প্রতিষ্টান 'মাদরাসা-ই-দারুল কিরাআত মাজিদিয়া' পরে নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয় 'দারুল হাদিস লতিফিয়া'। বর্তমানে এ প্রতিষ্টানে পাঁচ শতাধিক ছাত্র ইসলামী শিক্ষায় অধ্যয়নরত। সেখানে রয়েছে ব্রিটেনের ন্যাশনাল কারিকুলাম ও ইসলামী শিক্ষার সুষম সমম্বয়, যা মুসলিম সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে। কামিল জামাত সমাপ্ত করে অনেক ছাত্র উচ্চতর ইসলামি শিক্ষার জন্য মিশরের বিশ্ববিখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ পেয়ে সেখানে অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছেন। ইলম্-আমল, তাহযিব-তামাদ্দুম এবং আদব-আখলাকের বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের আদর্শ মুসলিম গঠনের প্রত্যয় নিয়ে 'দারুল হাদিস লতিফিয়া' তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
🔹দারুল হাদিস লতিফিয়া নর্থ ওয়েস্ট ওল্ডহ্যাম:
আল্লামা ফুলতলী (রহ.) জীবনের শেষ লগ্নে (২০০৭ সালে) যখন যুক্তরাজ্য সফরে আসেন তখন খুবই জোড়ালো ভাবে ইংল্যান্ডের নর্থ ওয়েস্টে একটি একটি পূর্ণাঙ্গ মাদ্রাসা (কামিল) গড়ার তাগিদ দিচ্ছিলেন! ছাহেব কিবলাহ'র নির্দেশ পেয়ে নর্থ ওয়েস্টের মসলকে ফুলতলীর মায়ার মানুষেরা খুবই উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে ১১৮-২০ মেইন রোড ওল্ডহ্যামে দুটি ছোট বাসা ক্রশ করে শুরু করেন ইভিনিং মাদ্রাসা। ২০১২ সাল থেকে ফুলটাইম সেকেন্ডারি স্কুল এবং কামিল জামাত পর্যন্ত মাদ্রাসা চালু করা হয়।
বর্তমানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বে আছেন ছাহেব কিবলাহ'র পৌত্র মাওলানা সালমান আহমেদ চৌধুরী ফুলতলী।
🔹লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্স বার্মিংহাম:
লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্স ব্রিটিশ কারিকুলাম অনুসারে পরিচালিত একটি মুসলিম স্কুল। এই প্রতিষ্টানটি প্রথম ২০০৯ সালে জালালিয়া এডুকেশন ইন্সটিটিউট নামে শুরু হয়।
🔹লতিফিয়া গার্লস (বালিকা) স্কুল :
২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাজ্য সফরকালে ছাহেব কিবলাহ (রহ.) ক্যানন ষ্ট্রীট রোডে মাদ্রাসা-ই দারুল কিরাআত মজিদিয়ার পুরাতন বিল্ডিংয়ে এই প্রতিষ্টানের অনুমোদন দেন।
🔹বার্মিংহামে সিরাজাম মুনিরা জামে মসজিদ ও এডুকেশন সেন্টার:
ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রুহানি আওলাদদের মাধ্যমে বার্মিংহামে এই সেন্টার প্রতিষ্টা করা হয়। ২০১৭ সালের মে মাসের শেষের দিকে এর উদ্বোধন করেন ছাহেব কিবলাহ'র সুযোগ্য উত্তরসুরী আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী।
🔹আনজুমানে আল-ইসলাহ ইউকে অ্যান্ড আয়ারল্যান্ড:
ইংল্যান্ডে অবস্থানরত মুসলিম সমাজকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা-আদর্শের উপর টিকিয়ে রাখা ও দ্বীনী খিদমত আনজাম দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) তাঁর প্রথম ব্রিটেন সফরকালে গঠন করেন 'আনজুমানে আল-ইসলাহ ইউকে'। বর্তমানে ইংল্যান্ডের প্রতিটি বড় নগরে আনজুমানে আল-ইসলাহ'র শাখা রয়েছে।
🔹লতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকে:
১৯৮৭ সালের নভেম্বর মাসে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) প্রতিষ্টা করেন 'আল-ইসলাহ উলামা সোসাইটি ইউকে'।আল্লামা ফুলতলী (রহ.) ইন্তেকাল পরবর্তী সময়ে এ সংগঠনের নামকরণ করা হয় 'লতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকে'।
🔹আল-ইসলাহ ইয়ুথ ফোরাম:
১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) গঠন করেন 'আল-ইসলাহ ইয়ুথ ফোরাম ইউকে'।
যুক্তরাষ্ট্র (আমেরিকা):
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান শহরে ২০০১ সালে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) নির্দেশে প্রতিষ্টিত হয় "আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার"। তিনি ছিলেন উক্ত সেন্টারের চিফ পেট্রন। উক্ত সেন্টারের অধীনে আল-ইসলাহ মসজিদ নামে একটি ঐতিহাসিক মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকার ইতিহাসে আদালতের রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশী মসজিদ সমূহের মধ্যে এই মসজিদ প্রথম প্রকাশ্যে আজানের অনুমতি লাভ করে।
🔵ইউরোপের বিভিন্ন দেশে:
🔹স্পেন: বার্সেলোনা: লতিফিয়া আইডিয়াল সোসাইটির উদ্যোগে ২০১৩ সালে শুরু হয় দারুল কিরাআত।
🔹মাদ্রীদ: স্পেনের রাজধানী মাদ্রীদে ২০১১ সালে আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ মাদ্রিদ গঠন করা হয়। এই সংগঠনের নেতা কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় ২০১৪ সালে প্রতিষ্টিত হয় শাহজালাল লতিফিয়া জামে মসজিদ, সি/কারাকাভা ১৪।
🔹ফ্রান্স: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২০১৩ সালে প্রতিষ্টিত হয় আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ ফ্রান্স।
🔹ইতালি: ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্টা হয় আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ ইতালি।
🔹পর্তুগাল: ইউরোপের অন্যতম দেশ পর্তুগালে ২০১৫ সালে প্রতিষ্টা করা হয় আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ পর্তুগাল।
🔹তুরস্ক: উসমানি খেলাফতের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক তুরস্কে ২০১৯ সালে প্রতিষ্টিত হয় আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ তুরস্ক।
🔹দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০১৫ সালে সাউথ (দক্ষিণ) আফ্রিকার ওয়ারেন্টন শহরে প্রতিষ্টা করা হয় আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ সাউথ আফ্রিকা।
🔵মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে
🔹সৌদি আরব: ইসলামের প্রাণকেন্দ্র সৌদিআরবে, ১৯৯৮ ইং সনে প্রতিষ্টিত হয়,আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ জেদ্দা শাখা, পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রতিষ্টিত হয় রিয়াদ শাখা, ২০১৯ সালে দাম্মাম প্রাদেশিক আঞ্চলিক শাখা।
🔹আরব আমিরাত: বাহরাইন সহ বিভিন্ন শহরে সুন্নীয়তের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্টা করা হয় আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ বাহরাইন।
🔹মালেশিয়া: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে প্রতিষ্টিত হয় আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ মালেশিয়া।
আল্লামা ফুলতলী (রহ.) ইন্তেকাল পরবর্তী সময়ে তাঁর সুযোগ্য সন্তান ও শাগরিদগণ তাঁর এ সকল খিদমতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, প্রতিষ্টা করছেন নতুন নতুন মাদরাসা, মসজিদ, মক্তব ও ইসলামিক সেন্টার।
রাব্বে কারীম যেন এইসকল খিদমত কবুল করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত জারী রাখেন 🤲
আমিন🤲
তথ্যসূত্র: আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) স্মারক।।

No comments