আল্লামা ড. মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহীর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
আমন্ত্রণ বাংলা ডেস্ক :: ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক, বাগ্মী অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী এর দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক সুনাম ও পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘকাল যাবত তিনি শিক্ষা, গবেষণা, ফাতাওয়া প্রদান, ওয়াজ-নসিহত, বই-পুস্তক লেখালেখি, গ্রন্থ প্রণয়নসহ সুমহান ইসলামের নিরন্তর খেদমত করে চলেছেন।
বাল্য_জীবনঃ
ড. মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী ১৯৬১ সালে ১লা মার্চ নীলফামারী জেলার ডোমার থানাধীন চিলাহাটী নিজভোগডাবুরী সরকার পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মুহাম্মদ আসেমুদ্দীন সরকার একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং স্বর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মাতা মুছাম্মাত কামীলা খাতুন।
শিক্ষা_জীবনঃ ইলমেদ্বীন শিক্ষাগ্রহণের মহান নিয়তে শৈশবকালে মাওলানা সালেহীকে তাঁর পিতা-মাতা স্থানীয় “চিলাহাটী জামেউল উলুম ফাযিল মাদরাসা”-এ ভর্তি করেন। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কৃতিত্বের সাথে সমাপ্ত করেন।
মাওলানা সালেহী শিক্ষা জীবনের শুরুতেই প্রখর মেধার পরিচয় দেন। তিনি শিক্ষা জীবনে কোন আরবি পুস্তকের কয়েকপৃষ্ঠা একবার পাঠ করলে দ্বিতীয়বার দেখার প্রয়োজন হতো না। ১৯৭৫ সালে তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা ইন্তেকাল করলে তিনি তাঁর মায়ের তত্বাবধানে উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশে গমন করেন এবং সর্বোচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসেন।
১৯৮২ সালে মাওলানা সালেহী বাংলার জামে আল-আযহার নামে খ্যাত “ছারছীনা জামেয়া ই ইসলামিয়া” পিরোজপুর-এ ভর্তি হয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-এর অধীনে ক্রমান্বয়ে কৃতিত্বের সাথে ১৯৮২ সালে ফাযিল শ্রেণিতে প্রথম বিভাগে, ১৯৮৪ সালে কামিল হাদীস বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, ১৯৮৫ কামিল ফিকহ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, ১৯৮৭ সালে কামিল তাফসীর বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং ১৯৮৯ সালে কামিল আদব বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে সম্মানের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরই মধ্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
মাওলানা সালেহী কর্মজীবনে অধিক ব্যস্ত থাকার পরেও পড়া-লেখার ব্যাপারে একজন ব্যতিক্রমধর্মী ব্যক্তি। এখনো তাঁর সাথে দেখা হলে কোন না কোন বই তাঁকে পড়তে দেখা যায়। তিনি তাঁর এই ব্যস্ততম জীবনে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমত সম্মানের সাথে এম.ফিল. এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে পি-এইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন।
উস্তাদ বৃন্দঃ
মাওলানা সালেহীর দেশবিদেশের অসংখ্য বুযুর্গ উস্তাযগণের মধ্যে অন্যতম ক’জন হলেন,
শায়খুল হাদীস আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোত্তানী আত তুর্কিস্তানী (র), অধ্যক্ষ মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ আব্দুল কাদীর (র.) (ওআইসি এর ফিকহ একাডেমির সদস্য), আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রব খান (র.), মাওলানা মুফতী আ ম ম আহমাদুল্লাহ (র.), মুহাদ্দিস মাওলানা রিদওয়ানুল কারীম (র.) (সাতক্ষীরার হুজুর), মাওলানা আব্দুল কাদির (র.) (খুলনাভী হুজুর), আলহাজ্ব মাওলানা সূফী আব্দুর রশীদ (র.), মাওলানা রুহুল আমীন ফরায়েজী (র.), অধ্যক্ষ মুফতী আমজাদ হুসাইন (র.), ড. মুহাম্মদ সেকান্দার আলী, মাওলানা মুহীয়ুদ্দীন হামীদী (র.), মাওলানা এনায়েতুল্লাহ (র.), এবং মৌলভী ইব্রাহীম হুজুর।
মাওলানা সালেহীন ইলমে শরীয়তের পাশাপাশি ইলমে তাসাওউফও অর্জন করেন। তিনি ছারছীনা দরবারের পীরে মরহুম মুজাদ্দিদে জামান, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত, শাহ সূফী হযরত মাওলানা আবু জা’ফর মোহাম্মদ সালেহ (নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহ)- এর হাতে বয়াত গ্রহণ করেন।
পারিবারিক_জীবনঃ
মাওলানা ডঃ মুফতী সালেহী ছারছীনা কামিল মাদরাসার উস্তায এবং দরবারের একনিষ্ঠ খাদেম আলহাজ্ব মাওলানা রফিকুল্লাহ নেছারী সাহেবের একমাত্র জামাতা। তিনি তিন পুত্র এবং তিন কন্যার জনক। তাঁর বড়ভাই একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক।
কর্ম_জীবনঃ
মাওলানা সালেহী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম কামিল মাদরাসা ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসায় আরবি লেকচারার পদে যোগদান করেন। তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে মুজাদ্দিদে যামান ছারছীনা দরবারের পীর হযরত মাওলানা শাহ আবু জা’ফর (র.) কামিল হাদীসের ক্লাস চলাকালীন সময়ে তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। অতঃপর মাওলানা সালেহী এই জগৎখ্যাত ওলী আল্লামা আবু জা’ফর ছালেহ (র.)-এর আদেশ মতে শ্রদ্ধেয় মায়ের অনুমতি নিয়ে ছারছীনা মাদরাসার তা’লীমের কাজ শুরু করেন।
ছারছীনা আলিয়া মাদরাসায় কামিল তাফসির বিভাগ খোলা হলে মাওলানা সালেহী এই বিভাগের প্রাধান পদে যোগদান করেন এবং কৃতিত্বের সাথে উলূমে কুরআনের খিদমত করে সারা দেশে খ্যাতি অর্জন করেন। ছারছীনার পীর হযরত মাওলানা শাহ আবু জাফর ছালেহ (র.)-এর ইন্তেকালের পরে তিনি ঢাকাস্থ মুহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়বিয়ার প্রথমত প্রধান মুহাদ্দিস, অতঃপর ভাইস প্রিন্সিপাল এবং কিছুদিনের জন্য অ্যাকটিং প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা জেলাধীন ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ছারছীনা শরীফের বর্তমান পীর মুজাদ্দিদে যামান আমীরে হিযবুল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহর (মা.জি.আ.)-এর নির্দেশক্রমে ঢাকা শহরের শ্যামপুর থানাধীন ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে বর্তমানে কর্মরত আছেন।
মাওলানা সালেহী ঢাকার শান্তিনগরস্থ ঐতিহ্যবাহী আমিনবাগ জামে মসজিদের বর্তমান খতীব। তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল-এর একজন সক্রিয় সদস্য এবং তিনি বেশ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানির শরীয়াহ এ্যাডভাইজরী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য। তিনি হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর (২০১৫-১৬) এবং এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট (আটাব)-এর নির্বাচিত ইসি সদস্য। তিনি রিয়াদুল জান্নাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস (হজ্জ ও ওমরাহ এজেন্সীর)- এর স্বত্বাধিকারী।
মাওলানা সালেহী -এর মতে তাঁর জীবনের সফলতার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলেন ছারছীনা শরীফের শ্রেষ্ঠতম ওলী শাহ আবু জা’ফর (র.)- এর সান্নিধ্য লাভ করা এবং অধিকতর যোগ্য শিক্ষকগণের সাহচার্য পাওয়া। বিশেষ করে জগৎবিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানী (র.)-এর মত একজন উস্তাযের দরসে বসা তাঁর জীবনের পরম সৌভাগ্যের দুয়ার খুলে দেয়। এখানে নিঃসঙ্কোচে বলা প্রয়োজন যে, এই ছারছীনা দরবারের উস্তায, নিবেদিত প্রাণ শ্বশুর হযরত মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল্লাহ ছাহেবের প্রত্যক্ষ নেগরানীতে তা’লীম তলক্বীনে তিনি তাঁর জীবনকে বিকশিত করার সুযোগ লাভ করেন।
উল্লেখযোগ্য_ছাত্রঃ
মাওলানা সালেহী শিক্ষকতার জীবনে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শাগরিদদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র বর্তমানে সারাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সহ দেশের বিভিন্ন দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, ফকিহ ও আদীব পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর অনেক ছাত্র যারা নিজ হাতে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে দ্বীন ইসলামের খিদমত করে চলেছেন।
তাঁর খ্যাতিমান ছাত্রদের মধ্য হতে কয়েকজনের নাম প্রকাশ করছি।
*আ. খ. ম আবু বকর সিদ্দীক -প্রিন্সিপাল দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা।
*মাওলানা জহুরুল ইসলাম -ভাইস প্রিন্সিপাল দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা।
*মাওলানা মাহবুবুর রহমান -ভাইস প্রিন্সিপাল দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা।
*মাওলানা তৈয়বুর রহমান (র.) -সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস ছারছীনা আলিয়া মাদরাসা।
*মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী -পীর সাহেব নেছারাবাদ দরবার শরীফ ও সাবেক প্রিন্সিপাল ঝালকাঠি এন.এস কামিল মাদরাসা।
*শাহ মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন ওয়ালীউল্লাহী
*ড. ওয়ালি উল্লাহ- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
*ড. গোলাম রব্বানী- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
*ড. মাহবুবুর রহমান- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
*ড. মফিজুর রহমান- চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
*ড. আবু ছালেহ পাটোয়ারি- জাতীয় মুফাস্সির ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
*বেরিস্টার ছিদ্দিকুর রহমান,প্রমূখ।
মাওলানা সালেহী শুধু একজন খ্যাতিমান শিক্ষকই নন বরং তিনি একজন সফল মুবাল্লিগও বটে। তিনি পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের সুমহান উদ্দেশ্য সুদূর কানাডা, আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেন, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ পৃথিবীর অসংখ্য দেশে সফর করে থাকেন। বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ তাঁর ভক্ত অনুরক্ত রয়েছে।
মাওলানা সালেহী একজন সফল এবং উল্লেখযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিত্বও। বাংলাদেশ বেতার টেলিভিশন, চ্যানেল আই, জিটিভি, মাই টিভি, আরটিভি, এন টিভি, একুশে টিভি, বৈশাখী টিভি সহ অসংখ্য স্যাটেলাইট চ্যানেলে তিনি নিয়মিত ভাষ্যকার এবং উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি রেডিও টুডে সহ ইলেকট্রনিক্স এবং প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
মাওলানা সালেহী সমকালীন ইসলামের ন্যায্য দাবী আদায়ের ক্ষেত্রেও অগ্রজনদের অন্যতম একজন। হাইকোর্ট তার এক রায়ে দেশে ফতোয়া নিষিদ্ধ করলে বিষয়টি সমাধানের লক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উত্থাপিত হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ফতোয়া বিষয়ে সঠিক মূল্যায়নের জন্য এ্যমিকাস কিউরি হিসেবে তিনি বাছাইকৃত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ আলেমের অন্যতম একজন। তিনি মান্যবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ৬জন বিচারপতির বেঞ্চে ফাতাওয়ার বৈধতা সম্পর্কে লিখিত এবং মৌখিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মাওলানা সালেহীর তথ্যবহুল লিখিত ব্যাখ্যা এবং যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপনায় সুপ্রিমকোর্টের উক্ত বেঞ্চ সন্তুষ্ট হয়ে দেশের সনদপ্রাপ্ত আলেমদের ফাতাওয়াদানের পক্ষে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। এ ঐতিহাসিক রায়ে দেশে উদ্ভূত অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
মাওলানা সালেহী বছরের প্রায় ৯মাস দেশ-বিদেশে ওয়াজ-নসীহতে শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত বই-পুস্তক অধ্যয়ন করেন। ইসলামের জটিল এবং কঠিন বিষয়গুলোকে গবেষণামূলক সমাধান দেয়ার জন্য তিনি “রিয়াদুল জান্নাহ রিচার্জ সেন্টার” নামক একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি “রিয়াদুল জান্নাহ” নামক একটি পাক্ষিক পত্রিকাও বের করেন। ক্ষুরধার লিখনির মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য “মিদাদ ফাউন্ডেশন” নামে একটি কলম সৈনিকদের মিলনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বীনী শিক্ষা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাওলানা তাঁর জন্মস্থানে আল মদীনা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এই কমপ্লেক্সের অধীনে জামিয়া -ই দ্বীনিয়া, আল মদীনা মসজিদ সহ জনহিতকর কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লেখনী কিতাবঃ
ডঃ মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী লিখুনির জগতেও বসে নেই। এযাবত তাঁর লিখিত উল্লেখযোগ্য অনেক পুস্তক ছাপানো হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে বেশকিছু মাসআলায় চুড়ান্ত ফয়সালা থাকা সত্ত্বেও কতিপয় লা-মাযহাবী, সালাফী, আহলে হাদীস. ওহাবী আলেম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে আছে। সাধারণ জনগণ এ সকল বিষয়ে চরম বিভ্রান্তির শিকার। দলীল-প্রমাণ জানা না থাকার কারণে অনেক আলেমও বিভ্রান্তিতে ঘোরপাক খাচ্ছেন।
হুজুরের লিখিত কিতাবের লিষ্ট নিচে দেওয়া হল।
১/ তাফসীরে ছালেহী - ১১৪ খন্ড।
২/ ১১৩ মাসয়ালায় বিভ্রান্তি ও সমাধান। (১ম খন্ড ও ২য় খন্ড)
৩/ কে সেই পিয়ারা নবী মুহাম্মদ (দরুদ)।
৪/ বিশ্ব নবীর প্রতি সৃষ্টিকুলের ভালবাসা (নবী প্রেম)।
৫/ আশেকে রাসূলের চোখে মীলাদ ও কিয়াম, দরুদ ও সালাম।
৬/ বিশ্ব নবী (দরুদ) এর রওজা মোবারক যিয়ারত ও মদীনা মুনাওয়রার ফজিলত।
৭/ আত্নার সংশোধন ও পরিচর্যা।
৮/ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পবিত্র হজ্জ ওমরা ও যিয়ারত।
৯/ নারীর হজ্জ ওমরা ও যিয়ারত।
১০/ যমযম কুপের ইতিকথা।
১১/ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহীম।
১২/ নারীর অলংকার (জম্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মাসায়েল)
১৩/ মাহে রামাজান ও সিয়াম সাধনা।
১৪/ হাদীস বিশারদ ও অলিয়ে কামেল ইমাম আজম আবু হানিফা (রহঃ)।
১৫/ হক বাতিলের লড়াই।
১৬/ সোহবতে ছালেহীন।
১৭/ ইমাম বুখারী (রহঃ)।
১৮/ শয়তানের শাস্তি।
১৯/ বিদয়াতের অপব্যাখ্যা।
২০/ আশ শিফা।
২১/ পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত।
২২/ রওজা মোবারকে জিন্দানবী।
২৩/ সহীহ ওযু সহীহ নামাজ।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মাওলানা সালেহী, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সু – স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করছি। আমীন।
শেয়ার করে সবার কাছে পৌঁছে দিন।
বাল্য_জীবনঃ
ড. মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী ১৯৬১ সালে ১লা মার্চ নীলফামারী জেলার ডোমার থানাধীন চিলাহাটী নিজভোগডাবুরী সরকার পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মুহাম্মদ আসেমুদ্দীন সরকার একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং স্বর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মাতা মুছাম্মাত কামীলা খাতুন।
শিক্ষা_জীবনঃ ইলমেদ্বীন শিক্ষাগ্রহণের মহান নিয়তে শৈশবকালে মাওলানা সালেহীকে তাঁর পিতা-মাতা স্থানীয় “চিলাহাটী জামেউল উলুম ফাযিল মাদরাসা”-এ ভর্তি করেন। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কৃতিত্বের সাথে সমাপ্ত করেন।
মাওলানা সালেহী শিক্ষা জীবনের শুরুতেই প্রখর মেধার পরিচয় দেন। তিনি শিক্ষা জীবনে কোন আরবি পুস্তকের কয়েকপৃষ্ঠা একবার পাঠ করলে দ্বিতীয়বার দেখার প্রয়োজন হতো না। ১৯৭৫ সালে তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা ইন্তেকাল করলে তিনি তাঁর মায়ের তত্বাবধানে উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশে গমন করেন এবং সর্বোচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসেন।
১৯৮২ সালে মাওলানা সালেহী বাংলার জামে আল-আযহার নামে খ্যাত “ছারছীনা জামেয়া ই ইসলামিয়া” পিরোজপুর-এ ভর্তি হয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-এর অধীনে ক্রমান্বয়ে কৃতিত্বের সাথে ১৯৮২ সালে ফাযিল শ্রেণিতে প্রথম বিভাগে, ১৯৮৪ সালে কামিল হাদীস বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, ১৯৮৫ কামিল ফিকহ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, ১৯৮৭ সালে কামিল তাফসীর বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং ১৯৮৯ সালে কামিল আদব বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে সম্মানের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরই মধ্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
মাওলানা সালেহী কর্মজীবনে অধিক ব্যস্ত থাকার পরেও পড়া-লেখার ব্যাপারে একজন ব্যতিক্রমধর্মী ব্যক্তি। এখনো তাঁর সাথে দেখা হলে কোন না কোন বই তাঁকে পড়তে দেখা যায়। তিনি তাঁর এই ব্যস্ততম জীবনে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমত সম্মানের সাথে এম.ফিল. এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে পি-এইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন।
উস্তাদ বৃন্দঃ
মাওলানা সালেহীর দেশবিদেশের অসংখ্য বুযুর্গ উস্তাযগণের মধ্যে অন্যতম ক’জন হলেন,
শায়খুল হাদীস আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোত্তানী আত তুর্কিস্তানী (র), অধ্যক্ষ মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ আব্দুল কাদীর (র.) (ওআইসি এর ফিকহ একাডেমির সদস্য), আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রব খান (র.), মাওলানা মুফতী আ ম ম আহমাদুল্লাহ (র.), মুহাদ্দিস মাওলানা রিদওয়ানুল কারীম (র.) (সাতক্ষীরার হুজুর), মাওলানা আব্দুল কাদির (র.) (খুলনাভী হুজুর), আলহাজ্ব মাওলানা সূফী আব্দুর রশীদ (র.), মাওলানা রুহুল আমীন ফরায়েজী (র.), অধ্যক্ষ মুফতী আমজাদ হুসাইন (র.), ড. মুহাম্মদ সেকান্দার আলী, মাওলানা মুহীয়ুদ্দীন হামীদী (র.), মাওলানা এনায়েতুল্লাহ (র.), এবং মৌলভী ইব্রাহীম হুজুর।
মাওলানা সালেহীন ইলমে শরীয়তের পাশাপাশি ইলমে তাসাওউফও অর্জন করেন। তিনি ছারছীনা দরবারের পীরে মরহুম মুজাদ্দিদে জামান, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত, শাহ সূফী হযরত মাওলানা আবু জা’ফর মোহাম্মদ সালেহ (নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহ)- এর হাতে বয়াত গ্রহণ করেন।
পারিবারিক_জীবনঃ
মাওলানা ডঃ মুফতী সালেহী ছারছীনা কামিল মাদরাসার উস্তায এবং দরবারের একনিষ্ঠ খাদেম আলহাজ্ব মাওলানা রফিকুল্লাহ নেছারী সাহেবের একমাত্র জামাতা। তিনি তিন পুত্র এবং তিন কন্যার জনক। তাঁর বড়ভাই একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক।
কর্ম_জীবনঃ
মাওলানা সালেহী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম কামিল মাদরাসা ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসায় আরবি লেকচারার পদে যোগদান করেন। তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে মুজাদ্দিদে যামান ছারছীনা দরবারের পীর হযরত মাওলানা শাহ আবু জা’ফর (র.) কামিল হাদীসের ক্লাস চলাকালীন সময়ে তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। অতঃপর মাওলানা সালেহী এই জগৎখ্যাত ওলী আল্লামা আবু জা’ফর ছালেহ (র.)-এর আদেশ মতে শ্রদ্ধেয় মায়ের অনুমতি নিয়ে ছারছীনা মাদরাসার তা’লীমের কাজ শুরু করেন।
ছারছীনা আলিয়া মাদরাসায় কামিল তাফসির বিভাগ খোলা হলে মাওলানা সালেহী এই বিভাগের প্রাধান পদে যোগদান করেন এবং কৃতিত্বের সাথে উলূমে কুরআনের খিদমত করে সারা দেশে খ্যাতি অর্জন করেন। ছারছীনার পীর হযরত মাওলানা শাহ আবু জাফর ছালেহ (র.)-এর ইন্তেকালের পরে তিনি ঢাকাস্থ মুহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়বিয়ার প্রথমত প্রধান মুহাদ্দিস, অতঃপর ভাইস প্রিন্সিপাল এবং কিছুদিনের জন্য অ্যাকটিং প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা জেলাধীন ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ছারছীনা শরীফের বর্তমান পীর মুজাদ্দিদে যামান আমীরে হিযবুল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহর (মা.জি.আ.)-এর নির্দেশক্রমে ঢাকা শহরের শ্যামপুর থানাধীন ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে বর্তমানে কর্মরত আছেন।
মাওলানা সালেহী ঢাকার শান্তিনগরস্থ ঐতিহ্যবাহী আমিনবাগ জামে মসজিদের বর্তমান খতীব। তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল-এর একজন সক্রিয় সদস্য এবং তিনি বেশ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানির শরীয়াহ এ্যাডভাইজরী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য। তিনি হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর (২০১৫-১৬) এবং এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট (আটাব)-এর নির্বাচিত ইসি সদস্য। তিনি রিয়াদুল জান্নাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস (হজ্জ ও ওমরাহ এজেন্সীর)- এর স্বত্বাধিকারী।
মাওলানা সালেহী -এর মতে তাঁর জীবনের সফলতার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলেন ছারছীনা শরীফের শ্রেষ্ঠতম ওলী শাহ আবু জা’ফর (র.)- এর সান্নিধ্য লাভ করা এবং অধিকতর যোগ্য শিক্ষকগণের সাহচার্য পাওয়া। বিশেষ করে জগৎবিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানী (র.)-এর মত একজন উস্তাযের দরসে বসা তাঁর জীবনের পরম সৌভাগ্যের দুয়ার খুলে দেয়। এখানে নিঃসঙ্কোচে বলা প্রয়োজন যে, এই ছারছীনা দরবারের উস্তায, নিবেদিত প্রাণ শ্বশুর হযরত মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল্লাহ ছাহেবের প্রত্যক্ষ নেগরানীতে তা’লীম তলক্বীনে তিনি তাঁর জীবনকে বিকশিত করার সুযোগ লাভ করেন।
উল্লেখযোগ্য_ছাত্রঃ
মাওলানা সালেহী শিক্ষকতার জীবনে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শাগরিদদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র বর্তমানে সারাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সহ দেশের বিভিন্ন দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, ফকিহ ও আদীব পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর অনেক ছাত্র যারা নিজ হাতে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে দ্বীন ইসলামের খিদমত করে চলেছেন।
তাঁর খ্যাতিমান ছাত্রদের মধ্য হতে কয়েকজনের নাম প্রকাশ করছি।
*আ. খ. ম আবু বকর সিদ্দীক -প্রিন্সিপাল দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা।
*মাওলানা জহুরুল ইসলাম -ভাইস প্রিন্সিপাল দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা।
*মাওলানা মাহবুবুর রহমান -ভাইস প্রিন্সিপাল দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা।
*মাওলানা তৈয়বুর রহমান (র.) -সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস ছারছীনা আলিয়া মাদরাসা।
*মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী -পীর সাহেব নেছারাবাদ দরবার শরীফ ও সাবেক প্রিন্সিপাল ঝালকাঠি এন.এস কামিল মাদরাসা।
*শাহ মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন ওয়ালীউল্লাহী
*ড. ওয়ালি উল্লাহ- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
*ড. গোলাম রব্বানী- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
*ড. মাহবুবুর রহমান- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
*ড. মফিজুর রহমান- চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
*ড. আবু ছালেহ পাটোয়ারি- জাতীয় মুফাস্সির ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
*বেরিস্টার ছিদ্দিকুর রহমান,প্রমূখ।
মাওলানা সালেহী শুধু একজন খ্যাতিমান শিক্ষকই নন বরং তিনি একজন সফল মুবাল্লিগও বটে। তিনি পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের সুমহান উদ্দেশ্য সুদূর কানাডা, আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেন, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ পৃথিবীর অসংখ্য দেশে সফর করে থাকেন। বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ তাঁর ভক্ত অনুরক্ত রয়েছে।
মাওলানা সালেহী একজন সফল এবং উল্লেখযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিত্বও। বাংলাদেশ বেতার টেলিভিশন, চ্যানেল আই, জিটিভি, মাই টিভি, আরটিভি, এন টিভি, একুশে টিভি, বৈশাখী টিভি সহ অসংখ্য স্যাটেলাইট চ্যানেলে তিনি নিয়মিত ভাষ্যকার এবং উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি রেডিও টুডে সহ ইলেকট্রনিক্স এবং প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
মাওলানা সালেহী সমকালীন ইসলামের ন্যায্য দাবী আদায়ের ক্ষেত্রেও অগ্রজনদের অন্যতম একজন। হাইকোর্ট তার এক রায়ে দেশে ফতোয়া নিষিদ্ধ করলে বিষয়টি সমাধানের লক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উত্থাপিত হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ফতোয়া বিষয়ে সঠিক মূল্যায়নের জন্য এ্যমিকাস কিউরি হিসেবে তিনি বাছাইকৃত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ আলেমের অন্যতম একজন। তিনি মান্যবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ৬জন বিচারপতির বেঞ্চে ফাতাওয়ার বৈধতা সম্পর্কে লিখিত এবং মৌখিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মাওলানা সালেহীর তথ্যবহুল লিখিত ব্যাখ্যা এবং যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপনায় সুপ্রিমকোর্টের উক্ত বেঞ্চ সন্তুষ্ট হয়ে দেশের সনদপ্রাপ্ত আলেমদের ফাতাওয়াদানের পক্ষে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। এ ঐতিহাসিক রায়ে দেশে উদ্ভূত অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
মাওলানা সালেহী বছরের প্রায় ৯মাস দেশ-বিদেশে ওয়াজ-নসীহতে শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত বই-পুস্তক অধ্যয়ন করেন। ইসলামের জটিল এবং কঠিন বিষয়গুলোকে গবেষণামূলক সমাধান দেয়ার জন্য তিনি “রিয়াদুল জান্নাহ রিচার্জ সেন্টার” নামক একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি “রিয়াদুল জান্নাহ” নামক একটি পাক্ষিক পত্রিকাও বের করেন। ক্ষুরধার লিখনির মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য “মিদাদ ফাউন্ডেশন” নামে একটি কলম সৈনিকদের মিলনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বীনী শিক্ষা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাওলানা তাঁর জন্মস্থানে আল মদীনা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এই কমপ্লেক্সের অধীনে জামিয়া -ই দ্বীনিয়া, আল মদীনা মসজিদ সহ জনহিতকর কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লেখনী কিতাবঃ
ডঃ মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী লিখুনির জগতেও বসে নেই। এযাবত তাঁর লিখিত উল্লেখযোগ্য অনেক পুস্তক ছাপানো হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে বেশকিছু মাসআলায় চুড়ান্ত ফয়সালা থাকা সত্ত্বেও কতিপয় লা-মাযহাবী, সালাফী, আহলে হাদীস. ওহাবী আলেম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে আছে। সাধারণ জনগণ এ সকল বিষয়ে চরম বিভ্রান্তির শিকার। দলীল-প্রমাণ জানা না থাকার কারণে অনেক আলেমও বিভ্রান্তিতে ঘোরপাক খাচ্ছেন।
হুজুরের লিখিত কিতাবের লিষ্ট নিচে দেওয়া হল।
১/ তাফসীরে ছালেহী - ১১৪ খন্ড।
২/ ১১৩ মাসয়ালায় বিভ্রান্তি ও সমাধান। (১ম খন্ড ও ২য় খন্ড)
৩/ কে সেই পিয়ারা নবী মুহাম্মদ (দরুদ)।
৪/ বিশ্ব নবীর প্রতি সৃষ্টিকুলের ভালবাসা (নবী প্রেম)।
৫/ আশেকে রাসূলের চোখে মীলাদ ও কিয়াম, দরুদ ও সালাম।
৬/ বিশ্ব নবী (দরুদ) এর রওজা মোবারক যিয়ারত ও মদীনা মুনাওয়রার ফজিলত।
৭/ আত্নার সংশোধন ও পরিচর্যা।
৮/ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পবিত্র হজ্জ ওমরা ও যিয়ারত।
৯/ নারীর হজ্জ ওমরা ও যিয়ারত।
১০/ যমযম কুপের ইতিকথা।
১১/ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহীম।
১২/ নারীর অলংকার (জম্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মাসায়েল)
১৩/ মাহে রামাজান ও সিয়াম সাধনা।
১৪/ হাদীস বিশারদ ও অলিয়ে কামেল ইমাম আজম আবু হানিফা (রহঃ)।
১৫/ হক বাতিলের লড়াই।
১৬/ সোহবতে ছালেহীন।
১৭/ ইমাম বুখারী (রহঃ)।
১৮/ শয়তানের শাস্তি।
১৯/ বিদয়াতের অপব্যাখ্যা।
২০/ আশ শিফা।
২১/ পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত।
২২/ রওজা মোবারকে জিন্দানবী।
২৩/ সহীহ ওযু সহীহ নামাজ।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মাওলানা সালেহী, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সু – স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করছি। আমীন।
শেয়ার করে সবার কাছে পৌঁছে দিন।

No comments