করোনার চাইতে ভয়ংকর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু।

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা :: করোনা মৃত্যুর পরিসংখ্যান আছে। কিন্তু করোনা-কালে বিনা চিকিৎসায় কত রোগী মারা যাচ্ছেন, তার হিসেব কেউ রাখছে না। করোনা আতঙ্কে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া মাল্টিমিডিয়া অনলাইন মিডিয়া, সমাজের সচেতন মহল সঠিক চিকিৎসা সেবার দাবি তুললেও নড়ছে না কারো টনক।  সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন জনগণ। প্রাইভেট ডাক্তার গনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, ধরিয়ে দেন একটা বিকাশ নাম্বার। বলা হয় প্রথমে এই নাম্বারে ৮০০শত টাকা বিকাশ করতে তারপর আলাপ। চিকিৎসা সেবার ধরন যে রকমই হোক, ভিজিট দেওয়াতে কোন ছাড় নেই। আলাপের পর যদি নরমাল মনে করেন তাহলে, হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে দেন। নতুবা বলবেন কোন ডিসপেনসারিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য, সেখানে ডিসপেনসারির কর্মকর্তা বা কর্মচারী রোগীর পালস তাপমাত্রা ও প্রেসার এর পরিমাণ নির্ণয় করে ডাক্তারকে জানানো হয়। ডাক্তার সাহেব রোগীর অবস্থা বুঝে দেন ব্যবস্থা পত্র। এই রকম চিকিৎসা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় রোগীর অভিভাবকদের।

বড় ধরনের কোনো রোগে আক্রান্ত রোগী লিংকের মাধ্যমে  হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, প্রথমেই করতে হবে করোনা টেস্ট। নতুবা ভর্তি নেওয়া হবে না।এ যেন মুভির ডায়লগ পুলিশ কেইস আগে চিকিৎসাসেবা পরে। প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে নেই বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার। ইন্টার্নি চিকিৎসক এবং নার্সদের দিয়ে চলছে হাসপাতালগুলো। রোগীর শরীরে স্যালাইন পুশ করে রাখাই হচ্ছে প্রধান চিকিৎসা। কোন কথা ও বলা যাবে না, অনেক সময় রোগীকে দেখতেও দেওয়া হয় না। রোগীর অবস্থা এবং চিকিৎসা সম্পর্কে কিছু বলতে চাইলে, উনারা বলবেন আপনি কি? ডাক্তার। আপনি যদি বেশি জানেন তাহলে নিয়ে যান।, আপনিই চিকিৎসা করেন। পরিশেষে সিট কাটার সময় পূর্বের তুলনার চাইতে বর্তমান বিল আসে চারগুন বেশি। সমস্ত হাসপাতলে ভর্তি থাকলে দশজন বিল হবে ১০০ জন সমপরিমান। এ হচ্ছে করোনা ট্রাজেডি। একজন ডেলিভারি রোগীর স্বামী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন। প্রাইভেট হাসপাতলে ডেলিভারি পেইন নিয়ে আসি আমার স্ত্রীকে। আসা মাত্রই ১০,০০০ দশ হাজার টাকার টেস্ট দেন, আরো বলেন অপারেশন করা লাগবে। বাচ্চা ও বাচ্চার মার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আই সি ইউ তে রাখা লাগবে প্রতিদিন বিল আসবে দুই জনের দশ দশ করে বিশ হাজার টাকা। সাথে টেস্ট ঔষধপত্র। সব মিলিয়ে লাগতে পারে লাখ দুই এক। এখন ভাবেন কি? করবেন। শুনামাত্রই উনার হার্টফেল হওয়ার অবস্থা। সাথে টাকা নিয়ে গেছেন ১৫,০০০ পনেরো হাজার। এত টাকা ব্যবস্থা করার মতো নাই কোন অবস্থা। এ যেনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রীতিমতো বস্ত্রহরণ। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। বাড়িতে ফোন দিবেন এমন সময় খবর আসলো নরমাল ডেলিভারিতে একটি ছেলে সন্তান হয়েছে। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ। এ যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মত কল্পনাতীত ব্যাপার। এভাবে অহরহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ। ইচ্ছা থাকলেও অনেকে নিজেকে কোন সমস্যায় জড়াতে চান না।এভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম উঠে স্বাভাবিক মৃত্যুতে। করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ব্যক্তির নাম হিসাবে উঠলোও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ কারীদের হিসাব কেউ নিচ্ছেনা রাখছেও না। সকলেরই স্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য তবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির নাম যেন স্বাভাবিক মৃত্যুতে না আসে। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণকারীদের পরিসংখ্যান করা হোক।

No comments

Powered by Blogger.